অন্যান্য

প্রশ্নঃ মেয়েদের জন্য চুল কাটা,চুল কালার করা কি জায়েজ?

আপনার জিজ্ঞাসা  ইসলামিক জিজ্ঞাসা ও জবাব ইসলামিক প্রশ্নোত্তর

উত্তরঃ ১। মেয়েদের চুল কাটা জায়েজ কিনা এই ব্যাপারে সরাসরি কোনো কুরআনের আয়াত কিংবা হাদীস নেই।
অধিকাংশ উলামার মত অনুযায়ী মেয়েদের জন্য চুল কাটা জায়েজ হবে তবে কিছু শর্ত রয়েছে।

প্রথমত, চুল কাটার উদ্দেশ্য কি সেটা একটা বিবেচ্য বিষয়।

চুল কাটার উদ্দেশ্য যদি হয়ে থাকে যে রাস্তায় বের হলে মানুষরা,বিশেষত ছেলেরা দেখে আপনাকে সুন্দর বলবে,আপনার দিক থেকে নজরই ফিরাতে পারবে না…তাহলে আপনার জন্য চুল কাটা হারাম।

কেননা নারীদেরকে অবশ্যই পরপুরুষের সামনে পরদা করতে হবে অর্থাৎ চুল ঢাকতে হবে এবং নারীদের সৌন্দর্য কেবল মাত্র তাদের সৌলমেট অর্থাৎ হাসবেন্ডকেই দেখানো জায়েজ।
যদি আপনার চুল কাটার কারণ হয় আপনার হাসবেন্ডকে খুশি করা তাহলে এটা বরং আপনার সওয়াবের খাতায় লেখা হবে ইন শা আল্লাহ।

দ্বিতীয়ত, চুলের স্টাইলে কোনো মতেই কুফফারদের অনুকরণ যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

কেননা রসুলুল্লাহ(সা) কাফিরদেরকে অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন। [১]

এবং এটা কিয়ামাতের একটা আলামাত যে মুসলিমরা কাফিরদেরকে অনুকরণ করবে। [২]

বলাই বাহুল্য আজকাল যত হেয়ারকাটের নাম শোনা যায় সবই সম্ভবত কাফিরদের উদ্ভাবন।
ইউ কাট,লেয়ার,ভলিউম লেয়ার,টুইটি,ব্যাং ইত্যাদি ফিত্যাদি।

 

তৃতীয়ত, নারীরা ততোটুকু পর্যন্ত চুল কাটতে পারবে যতোটুকু পর্যন্ত কাটলে তা পুরুষদেরকে নকল করা হবে না।

অর্থাৎ চুল কাটলে তা অবশ্যই ঘাড়ের নিচ পর্যন্ত রাখতে হবে। কেননা ঘাড়ের উপরে আসলেই তা পুরুষদেরকে নকল করা হবে।

★ আল্লাহর রসুল(সা) সেই নারীদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন যারা পুরুষদের নকল করে। [৩]

২। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই চুল কালার করা জায়েজ।পুরুষদের চুল কিংবা দাড়ি পেকে গেলে রাসুল(সা) তাতে খিজাব অর্থাৎ রঙ ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

★ কেননা ইয়াহুদীরা চুল-দাড়ি পেকে গেলে সাদাই রেখে দিত। [৪]

তাদের অনুকরণ যাতে না হয়ে যায় তাই মুসলিমরা পেকে যাওয়া চুল-দাড়িতে রঙ ব্যবহার করবে।তবে তা যাতে কালো না হয়।
কারণ কালো রঙ করা হলে তাকে কমবয়স্ক মনে হবে এতে মানুষ তার বয়স নিয়ে ধোকায় পরে যাবে।

অনুরুপ মহিলাদের ক্ষেত্রেও।মহিলারাও চাইলে চুলে রঙ ব্যবহার করতে পারবে। শর্ত গুলো হলো,

প্রথমত, চুল রঙ করার কারণ যদি এই হয়ে থাকে যে অন্য কোনো পুরুষকে আকর্ষণ করা তাহলে আপনার জন্য এটা বৈধ নয়।
আর যদি স্বামীকে সন্তুষ্ট করা, স্বামীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা আপনার উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তবে সেটা আপনার জন্য সওয়াব হিসেবে গণ্য হবে ইন শা আল্লাহ।

দ্বিতীয়ত, কালো রঙ বা কলপ হওয়া যাবে না এবং এমন কোনো রঙ হওয়া যাবে না যা আপনাকে সাধারণ মানুষদের থেকে আলাদা করে রিপ্রেসেন্ট করবে।
যেমন ধরুন বেগুনী,পিংক ইত্যাদি রঙ ব্যবহার করা যাবে না।

তৃতীয়ত, পুরো চুল একই রঙের করে ফেলতে হবে।কিছু অংশ ছেড়ে কিছু অংশ রঙ করা যাবে না।যেমনটা আজকাল দেখা যায়।
অর্ধেক মাথা কালো আর অর্ধেকটা খয়েরী।বা পুরো মাথা কালো মাঝে মাঝে খয়রী রঙের টান দেওয়া।এভাবে রঙ করা যাবে না।

রেফারেন্সঃ-
[১]সহীহুল বুখরী-৭০৭৯,৩৪৫৬
[২]সহীহুল বুখরী-৩৪৫৬
[৩]জামি আত-তিরমিযি-৩০১৩,সুনান আবি দাউদ-৪০৯৭
[৪]সুনান আন নাসাঈ-৫০৭২

 

➥ লিংকটি কপি অথবা প্রিন্ট করে শেয়ার করুন:
পুরোটা দেখুন
এছাড়াও পড়ে দেখুন
Close
Back to top button