পবিত্রতাপ্রশ্নোত্তরে ফিকহুল ইবাদাত

১১১. তায়াম্মুম করার পদ্ধতি কী?

১. প্রথমে মনে মনে নিয়ত করবে । অর্থাৎ এ তায়াম্মুম ওযূর বদলে অথবা গোসল ফরয হয়ে থাকলে গোসলের পরিবর্তে সে ইচ্ছা পোষণ করবে। মুখে কোন কিছুই বলা লাগবে না।

২. অতঃপর ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ পড়বে।
 
৩. এরপর দুই হাতের তালু পাক মাটির উপর মেরে ধুলোবালি থাকলে ফু দিয়ে বা ঝাড়া দিয়ে পরিষ্কার করে দু’হাত দিয়ে মুখমণ্ডল হালকাভাবে একবার মাসেহ করবে। তারপর ডান হাত মাসেহ করবে বাম হাত দ্বারা, আর সবশেষে বাম হাত মাসেহ করবে ডান হাত দ্বারা। তবে এর বিপরীতও জায়েয। নিয়ম হলো এক হাতের তালু দিয়ে অপর হাতের পিঠ মাসেহ করবে শুধুমাত্র কজি পর্যন্ত, কনুই পর্যন্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই। (দেখুন: এ সম্পর্কিত হাদীস, বুখারী: ৩৪৭, মুসলিম: ৩৬৮)।

উল্লেখ্য যে,
(ক) মুখ ও হাত মাসেহ করার জন্য মাটিতে হাত মারবে মাত্র একবার, মুখ মাসেহের জন্য একবার, আবার হাত মাসেহের জন্য আরেকবার এভাবে দু’বার প্রয়োজন নেই । দু’বার হাত মারার হাদীসটি দুর্বল । বিশুদ্ধ হলো, মাটিতে মাত্র একবার হাত মারা।

(খ) কনুই পর্যন্ত হাত মাসেহ করার পক্ষে কোন সহীহ হাদীস নেই। আছে দুর্বল হাদীস । কাজেই শুদ্ধ হলো, শুধুমাত্র হাতের কজি পর্যন্ত মাসেহ করা। যা সহীহ বুখারীতে এসেছে । সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাকার ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রা) বলেছেন, তায়াম্মুম বিষয়ে বুখারী ও মুসলিম ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হাদীসগুলো দুর্বল । অতএব, বিজ্ঞ ফকীহগণের মতে, সহীহ হাদীসের বিপরীতে দুর্বল হাদীস আমল করা ঠিক নয়।

সূত্র: প্রশ্নোত্তরে ফিকহুল ইবাদাত
লেখক: অধ্যাপক মোঃ নূরুল ইসলাম

➥ লিংকটি কপি অথবা প্রিন্ট করে শেয়ার করুন:
পুরোটা দেখুন

এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য লিখা

Back to top button