পবিত্রতাপ্রশ্নোত্তরে ফিকহুল ইবাদাত

৬. নাপাকী কী? কী করলে দেহ নাপাক হয়? দেহের নাপাকী কত প্রকার? (দেহের নাপাকি ও এর প্রকারভেদ)

নাপাকিকে আরবীতে – (নাজাসাত) বলা হয়। আর নাজাছা’ হলো অপবিত্রতা অর্থাৎ পবিত্রতার বিপরীত। নাপাকি হলো এমন ধরনের ময়লা অপরিচ্ছন্নতা যা থেকে দূরে থাকার জন্য আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ নাপাকি প্রধানত, দুই প্রকার
(১) হুকমি ও (২) হাকীকী। এ দুই প্রকারে প্রত্যেকটি আবার দুই ভাগে বিভক্ত। নিচের ছকের মধ্যে এর প্রকারভেদ দেখানো হলো:
 
(নাপাকি)
– হুকমি
– হাকীকী

(হুকমি)
– ছোট নাপাকি
– বড় নাপাকি

(হাকীকী)
– গালীযা (তীব্র)
– খাফীফা (হালকা)

১. নাজাসাতে হুকমী: ওযূ করার পর একজন লোক পেশাব করল। ফলে সে নাপাক হয়ে গেল। ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হলো । এতেও সে নাপাক হয়ে গেল । ব্যক্তিটি কিন্তু নাপাক নয়। এ লোকটি নাপাক হয়েছে পেশাব বা স্বপ্নদোষের কারণে । কোন একটা কারণে নাপাক হওয়ার দরুন এটাকে বলা হয় হুকুমগত নাপাকি অর্থাৎ নাজাছাতে হুকমিয়্যাহ

 এ জাতীয় নাপাকি আবার দু’ প্রকার:
ক. ছোট নাপাকি: কেউ পেশাব করল বা পায়খানা করল বা বায়ু বের হলো, ফলে লোকটি এখন নাপাক। এ ব্যক্তি কেবল ওযূ করলেই আবার পবিত্র হয়ে যাবে ।

খ. বড় নাপাকি: কারোর স্বপ্নদোষ হলো বা কেউ স্ত্রী সহবাস করল । এ ব্যক্তিটি এখন যে ধরনের নাপাকী হলো সেটা হলো বড় নাপাক। এমন নাপাকী থেকে পবিত্র হতে হলে ওযূ নয়, গোসল করতে হবে । আর এ গোসলটি হলো ফরয গোসল । সারসংক্ষেপ হলো- ছোট নাপাক হলে শুধু ওযু এবং বড় নাপাক হলে গোসল করে পবিত্র হতে হয়।

২. নাজাসাতে হাকীকী হলো মূল বস্তুটিই নাপাক । যেমন- পেশাব, পায়খানা, শূকর, কুকুর, মদ ইত্যাদি। ধৌত করে এগুলোকে পবিত্র করা সম্ভব নয়। কারণ এগুলো প্রকৃত নাপাক বস্তু। এসবকে আবার ‘নাজাছাতে আইনিয়্যাহও  বলা হয়। অর্থাৎ এগুলো নিজেরাই নাপাক। এ নাপাকি আবার দু প্রকার:

ক. গালীযা অর্থাৎ তীব্র নাপাক
খ. খাফীফা অর্থাৎ হালকা নাপাক

সূত্র: প্রশ্নোত্তরে ফিকহুল ইবাদাত
লেখক: অধ্যাপক মোঃ নূরুল ইসলাম

➥ লিংকটি কপি অথবা প্রিন্ট করে শেয়ার করুন:
পুরোটা দেখুন

এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য লিখা

Back to top button