অন্যান্য

প্রশ্ন: বদনজর, জাদু ,জিন থেকে বাচার জন্য কোরআন ও হাদিস কি বলে?

উত্তর: বদনজর, জাদু ও জিন থেকে বাচার জন্য কুরআন ও হাদীসের জিকির ও দু’য়ার মাধ্যমে নিজেকে হেফাজত রাখা সম্ভব। অতি সংক্ষেপে তা আলোচনা করা হচ্ছে।

▪১। নিয়মিত প্রতি ফরজ সালাতের পর ও ঘুমানোর সময় আয়াতুল কুরসী পাঠ করা।
اللَّهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ /٢٥٥

▪২। সূলা এখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস প্রতি ফরজ সালাতের পর একবার করে ও সকাল-বিকাল এবং ঘুমের সময় তিনবার করে সর্বদা পাঠ করা।

▪৩। সূরা বাকারার শেষের দু’টি আয়াত রাত্রের প্রথমে বা ঘুমানর সময় প্রতিদিন পাঠ করা।

▪৪। নতুন কোন জায়গায় অবতরণ করলে এই দোয়া পড়তে হয়…
(আ’ঊযু বিকালিমাতিল্লাহিত্ তাম্মাহ, মিন কুল্লি শায়ত্ব-নিন ওয়াহাম্মাহ, ওয়ামিন কুল্লি ‘আইনিন লাম্মাহ)

▪৫। সকাল-বিকাল জিকিরগুলো নিয়মিত পাঠ করা।

▪৬। ফরজ সালাতের পর পঠনীয় জিকিরসমূহ নিয়মিত পাঠ করা।

▪৭। বাড়ীতে সূরা বাকারা তেলাওয়াত করা।

▪৮। ঘর-বাড়ীকে আত্মবিশিষ্ট সর্বপ্রকার ছবি এবং মূর্তী ও কুকুর হতে মুক্ত রাখা।

▪৯। জাদুর স্থান জানার চেষ্টা করা এবং সেখান হতে জাদুর জিনিসগুলো বের করে সেগুলো উপর এই আয়াত গুলো পাঠ করে ( চার কুল: সূরা কাফিরুন, এখলাস, ফালাক, ও নাস, তিনবার করে) সেগুলো জ্বালিয়ে দেয়া।আর জাদুর জন্যে ইহা হচ্ছে সবচেয়ে উপকারী চিকিতসা।

▪১০।সূরা ফাতিহা পড়া ।

▪১১। সূরা বাকারা থেকে প্রথম পাচ আয়াত পড়া।

▪১২। সূরা ইউসুফের ৬৪নং আয়াত পড়া

▪১৩। সূরা আরাফের ১১৭ হতে ১১৯ আয়াত পর্যন্ত, সূরা ইউনুসের ৭৯-৮২ আয়াত পর্যন্ত এবং সূরা ত্বহার ৬৫-৬৯ পর্যন্ত তেলাওয়াত করা।

▪১৪। এই দোয়া পড়ে ঝাড় ফুক করা ( ইমসাহিল বা’সা রব্বান্নাস, বিইয়াদিকাশ শিফা, লা কাশিফা লাহূ ইল্লাহ আন্তা)

▪১৫।এই দোয়া তিনবার পড়া (বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াযুররু মা’আসমিহী শাইউন ফিলআরযি ওয়ালা ফিসসামায়ি ওহুয়াস সামী’উ আলীম)

▪১৬। আরো একটি দোয়া হলো … (বিসমিল্লাহি ইউবরীকা ওয়ামিন কুল্লি দায়িন ইয়াশফীক, ওয়ামিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ, ওয়াশাররি কুল্লি যী’ আইন)

▪১৭ এই দোয়া পড়া ( আযহিবিল বা’স, রব্বান্নাস, ওয়াশিফ আন্তাশশাফী, লা শিফায়া ইল্লা শিফাউক, শিফায়ান লা ইউগাদিরু সাক্বামা)

▪১৮। আসআলুল্লাহিল ‘আযীম রব্বাল আরশিল আযীম, আয়ইয়াশফীক (সাতবার) পড়া।

◾নোট
———–
▪১। উপরের সূরা গুলো আয়াত ও দু’য়াসমূহ রোগী ও জমজম বা বৃষ্টির পানি এবং জায়তুন ও কালোজিরার তেল ও খাটি মধুতে পড়ে পড়ে একই সাথে ফুক দিবে।

▪২। জমজম পানি নিয়মিত নিয়ত করে পান করবে।

▪৩। সাতটি কাচা কুলপাতা বেটে পড়া পানিতে মিশিয়ে সাতদিন কিছু পান করবে এবং অবশিষ্ট দ্বারা গোসল করবে। প্রয়োজনে সাতদিনের বেশীও করতে পারে।

▪৪। জয়তুন ও কালোজিরার তেল খাবে, পান করবে ও মাথা, মুখে ও সমস্ত শরীরে মাখবে।

▪৫। মধু খালি পেটে খাবে অথবা প্রয়োজনে অতিরিক্ত মিশালেই চলবে।

◾আশা করা যায় উপরোক্ত আমল গুলো যদি সহীহ নিয়তে একমাত্র আল্লাহকে রাজি খুসি রেখে করলে বদনজর, জাদু ও জিন থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
ইন শা আল্লাহ।

◾বদনজর সম্পর্কিত বিশেষ আলোচনাঃ

◾বদনজর অর্থঃ নজর অর্থ চোখ বা দেখা বা দৃষ্টিপাত। যখন কেউ কোন ব্যক্তি বা জিনিসের প্রতি আশ্চর্য হয়ে কিংবা মজাক অথবা হিংসা করে দৃষ্টি নিক্ষেপ করত, “বারাকাল্লাহু ফীকা” বা “বারাকাল্লাহু ফীহ্” বা মাশা আল্লাহ, দোয়া না বলে মনে মনে বা স্বশব্দে তার গুণাগুণ বর্ণনা করে, তখন শয়তান সে সময় বর্ণিত বা জিনিসের মাঝে ঢুকে পড়ে আল্লাহর কাওনী তথা সৃষ্টিতগ অনুমতিক্রমেই ক্ষতি করে বসে।চোখ বা দৃষ্টিশক্তি স্বয়ং নিজে কোন ক্ষতি করতে পারে না।তাই অন্ধ মানুষের দ্বারাও নজর লাগে। সাধারণত চোখ দ্বারা দেখার পরই দোয়া ছাড়া গুণাগুণ বর্ণনা করার দ্বারাই নজর লাগা বলা হয়।

◾নজর লাগার হকিকত বা কারনঃ
—————-
◾১। নবী (সা) বলেন… যখন তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের অথবা নিজের কিংবা তার সম্পদের কিছু দেখে আশ্চর্যবোধ করে তখন যে তার জন্য বরকতের দোয়া করে, কেননা নজর লাগা সত্যি জিনিস।
(আহমাদ, শাইখ আলবানী (রহ) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, সিলসিলা হাদীস নং ২৫৭২)

◾২। নবী (সা) বলেন… নজর লাগা সত্য। যদি কোন কিছু ভাগ্যের লিখনকে অতিক্রম করত, তাহলে নজরলাগাই করত।
(মুসলিম)

◾৩। নবী (সা) আরো বলেন… আল্লাহর ফয়সালা ও ভাগ্যের পরে আমার উম্মতের সবচেয়ে বেশী মানুষ মারা যায় নজরলেগে।
(সহীহুল জামে হাদীস নং ১২০৬)

◾৪। বদনজর (মানুষকে) কবরে এবং উটকে পাতিলে প্রবেশ করাই ছাড়ে।
(সহীহুল জামে, হাদীস নং ৪১৪৪)

◾বদনজরের প্রকারঃ
————–
▪ক) কষ্টদায়ক নজরলাগাঃ ইহা যে কোন মানুষ দ্বারা হতে পারে। যখন আল্লাহর জিকির ছাড়া গুণাগুণ বর্ণনা করে, তখন শয়তান হাজির হয় এবং বর্ণনা শুনামাত্র বর্ণিত ব্যক্তির মাঝে প্রবেশ করে আল্লাহর কাওনী তথা সৃষ্টিগত ইচ্ছায় প্রভাব ফেলে। মজাক করে এবং আশ্চর্য হয়ে বললেও নজরলাগে।এই ধরনের নজর একান্ত নিজর্স মানুষ বা নিজের প্রতিও নিজের নজর লাগতে পারে।

▪খ) ধ্বংসাত্নাক নজরলাগাঃ ইহা কিছু দুর্বল ঈমানের মানুষ দ্বারা হয়। যখন দোয়া ছাড়া গুনাগুন বর্ণনা করে তখন শয়তান বর্ণিত ব্যক্তির বা নিজের মাঝে প্রবেশ করে আল্লাহর কাওনী তথা সৃষ্টিগত অনুমোতিক্রমে তা ধ্বংস করে ফেলে।এই ব্যপারে নবী (সা) বলেন… নজর লাগা সত্য এবং (গুণাগুণ বর্ণনার সময়) শয়তান ও বনী আদমের হিংসা হাজীর হয়।
(মুসনাদ আহম্মদ, হাদীস নং ২১৪৩৯)

◾ বদনজর লাগার কারনে যে সকল রোগের সৃষ্টি হয়ঃ
————–
▪১। শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যাথা
▪২। একাধিক প্রকারের ক্যান্সার
▪৩। হার্ট এট্যাক
▪৪। শ্বাসকষ্ট
▪৫। হাপানি
▪৬। অবশ হওয়া
▪৭। ব্লাড প্রেশার
▪৮। এবং মানুষিক রোজও বটে….

◾মহান আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে মানুষ ও শয়তান জ্বীন থেকে হেফাজত করুন এবং তাদের প্রত্যেকের বদনজর থেকে হেফাজত করুন।

◾পানি পড়া বৈধ কি না?

◾পানি পাত্রে ফুঁক দিতে হাদিসে নিষেধ আছে, তাহলে পানি পড়তে ফুঁক দেওয়া কিভাবে বৈধ হতে পারে?

◾→পানি পড়া বৈধ।
যেহেতু কুরআন পড়ার বরকত মিশ্রিত ফুঁক ও থুথু, সেহেতু তাতে আরোগ্য লাভের আশা করা যায় এবং তা আপত্তিকর নয়।

◾পানিতে কুরআনের সূরা বা আয়াত পড়ে ফুঁ দিয়ে চিকিৎসা করা জায়েজ।
(ফাতাওয়া উসাইমিন (১/১০৭)।

◾আব্দুল হামিদ ফাইযী বলেছেন,
ঝাড়ফুঁক করা ও করানো বৈধ,”যদি” নিচের দুটো শর্ত লঙ্ঘন না করেঃ

▪১. তা কুরআনের আয়াত অথবা সহীহ হাদীসের দুআ দ্বারা হতে হবে।

▪২. সাথে সাথে এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে,আরোগ্যদাতা কেবল মহান আল্লাহ।
والله اعلم.
গ্রন্থঃ দ্বীনী প্রশ্নোত্তর
বর্তমান অনুচ্ছেদ/বিষয়ের সংখ্যাঃ 793 টি
লেখক/সংকলকঃ আবদুল হামীদ ফাইযী।

➥ লিংকটি কপি অথবা প্রিন্ট করে শেয়ার করুন:
পুরোটা দেখুন

মাহবুব বিন আনোয়ার

❝ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোন হক ইলাহ নেই,এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল।❞ আমি যদিও একজন জেনারেল পড়ুয়া ছাত্র তাই আমার পক্ষে ভুল হওয়া অসম্ভব কিছু না, আমি ইসলামী শরীইয়াহ বিষয়ক জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করছি এবং এর সাথে মানুষ কে রাসুল (সা:) এর হাদিস এবং আমাদের সালফে সালেহীনদের আদর্শের দিকে দাওয়াত দেওয়ার চেষ্টা করি। যদি আমার কোন ভুল হয় ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সেটা আমাকে জানাবেন যাতে আমি শুধরে নিতে পারি।

এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য লিখা

Back to top button