রোজা / সিয়াম

যে ব্যক্তি রমযান মাসে বিয়ে করতে চায়

প্রশ্নঃ এক ব্যক্তি এক মেয়েকে ভালবাসে। সে ঐ মেয়েকে রমযান মাসে বিয়ে করতে চায়। তার সাথে কথাবার্তা বলতে চায়। রমযান মাসে ঐ মেয়েকে বিয়ে করতে ও রমযান মাসে তার সাথে কথাবার্তা বলার ক্ষেত্রে ইসলামে কি নিষেধাজ্ঞামূলক কোন বিধি আছে?

লোকটি মেয়েটিকে অনেক ভালবাসে এবং বিয়ে করতে চায়। আশা করি এ ব্যাপারে আপনারা আমাকে উপদেশ দিবেন।

উত্তরঃ আলহামদু লিল্লাহ।

ইসলামী শরিয়তে এমন কিছু নাই যা রমযান মাসে কেবল রমযানটি মাস হওয়ার কারণে বিয়েতে বাধা দেয়; কিংবা অন্য কোন মাসে বিয়ে করতে বাধা দেয়। বরং বছরের যে কোন সময় বিয়ে করা জায়েয।

কিন্তু রোযাদারের জন্য ফজর থেকে সূর্যাস্ত যাওয়া পর্যন্ত সময়ে পানাহার ও স্ত্রী সহবাস করা নিষিদ্ধ। তাই যে ব্যক্তি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে এবং রোযা নষ্টকারী বিষয়ে লিপ্ত হওয়ার আশংকা না করে তার জন্য রমযান মাসে বিয়ে করতে কোন আপত্তি নেই।

তবে বাহ্যতঃ দেখা যায়, যে ব্যক্তি রমযান মাসে তার দাম্পত্য জীবন শুরু করতে চায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে দিনের বেলায় সে নতুন স্ত্রী থেকে ধৈর্য রাখতে পারে না। তাই সে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া ও এ মর্যাদাবান মাসের পবিত্রতা লঙ্ঘন করার আশংকা থাকে। এভাবে সে কবিরা গুনাতে লিপ্ত হয়ে তার উপর রোযার কাযা পালন ও বড় কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হতে পারে। বড় কাফ্‌ফারা হল একটি দাস আযাদ করা। দাস না পেলে দুইমাস লাগাতর রোযা রাখা। যদি রোযাও না রাখতে পারে তাহলে ষাটজন মিসকীনকে খাওয়ানো। যদি একাধিক দিন সহবাস করে থাকে তাহলে সে দিনগুলোর সংখ্যা যত ততটি কাফ্‌ফারা আসবে।

আরও জানতে দেখুন: 22960 নং ও 1672 নং প্রশ্নোত্তর।

প্রশ্নকারীর জন্য উপদেশ হচ্ছে যদি তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার আশংকা করেন তাহলে তিনি যেন বিয়েটা রমযানের পরপর করেন। রমযান মাসে তিনি যেন নিজেকে ইবাদত করা, তেলাওয়াত করা ও কিয়ামুল লাইল পালন ইত্যাদি ইবাদতে ব্যস্ত রাখেন। আর যে মেয়েকে বিয়ে করতে চাওয়া হচ্ছে তার সাথে রমযান মাসে কথাবার্তা বলা সংক্রান্ত বিধান ইতিপূর্বে 13918 নং ও 13791 নং প্রশ্নোত্তরে আলোচিত হয়েছে। 

আল্লাহ্‌ই সর্বজ্ঞ।

সূত্র: ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব

➥ লিংকটি কপি অথবা প্রিন্ট করে শেয়ার করুন:
পুরোটা দেখুন

Mahmud Ibn Shahid Ullah

"যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি একজন মুসলিম, তার কথা অপেক্ষা উত্তম কথা আর কার?" আমি একজন তালিবুল ইলম। আমি নিজেকে ভুলের উর্ধ্বে মনে করি না এবং আমিই হক্ব বাকি সবাই বাতিল এমনও ভাবিনা। অতএব, আমার দ্বারা ভুলত্রুটি হলে নাসীহা প্রদানের জন্যে অনুরোধ রইল। ❛❛যখন দেখবেন বাত্বিল আপনার উপর সন্তুষ্ট, তখন বুঝে নিবেন আপনি ক্রমের হক্ব থেকে বক্রপথে ধবিত হচ্ছেন।❞

এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য লিখা

Back to top button