অন্যান্য

প্রশ্নঃ স্ত্রীর কথায় দাড়ি কেটে ফেলা উচিৎ ?

ইসলামে পুরুষের দাড়ি রাখার গুরুত্ব কতটুকু? পুরুষের দাড়ি রাখা সম্পর্কে ইসলাম কি বলেঃ

দাড়ি আল্লাহর একটি মহান ও বড় নি‘আমত। ইসলামের চিহ্ন বলে বিবেচিত। দাড়ি মানেই পুরুষত্ব, এটি পুরুষত্বের পরিচয়, মুসলিমের সৌন্দর্য। দাড়ি কেবল কিছুসংখ্যক চুল রাখা এমনটি নয়। এটি মহান আল্লাহর প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহের অন্যতম নিদর্শন। এর দ্বারা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ذَٰلِكَۖ وَمَن يُعَظِّمۡ شَعَٰٓئِرَ ٱللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقۡوَى ٱلۡقُلُوبِ ٣٢ ﴾ [الحج: ٣٢]“আর কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে সম্মান করলে এটা তার হৃদয়ের তাকওয়া হতে উদ্ভূত বা আল্লাহ সচেতনতার লক্ষণ।” [সূরা আল-হাজ, আয়াত: ৩২]

শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসায়মীন রহ. বলেন, নবী-রাসূলদের সুন্নাত ও পথ নির্দেশনাই হলো দাড়ি রাখা। সকল নবীর দাড়ি ছিল। কেউই শেভ করে নি, দাড়িতে স্টইল করেন নি। মহান আল্লাহ নবী হারূন আলাইহিস সালামের প্রসঙ্গ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, যখন হারূন আলাইহিস সালাম তার ভাই মূসা আলাইহিস সালামকে বলেন,
﴿قَالَ يَبۡنَؤُمَّ لَا تَأۡخُذۡ بِلِحۡيَتِي وَلَا بِرَأۡسِيٓۖ إِنِّي خَشِيتُ أَن تَقُولَ فَرَّقۡتَ بَيۡنَ بَنِيٓ إِسۡرَٰٓءِيلَ وَلَمۡ تَرۡقُبۡ قَوۡلِي ٩٤ ﴾ [طه: ٩٤]“হারূন বললেন: ‘হে আমার সহোদর! আমার দাড়ি ও চুল ধরবেন না। আমি আশংকা করেছিলাম যে, আপনি বলবেন: তুমি বনী ইসরাঈলদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছো ও আমার কথা শোনায় যত্নবান হও নি।” [সূরা ত্বাহা, আয়াত: ৯৪]

তাছাড়াও দাড়ির ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরাম এবং সালাফে সালেহীন তথা আমাদের নেককার উত্তরসূরীরাও আমাদেরকে সঠিক পথ নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। তাদের কেউই দাড়ি শেভ করতেন না।

সাহাবী কাইস ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু আনহুর দাড়ি উঠে নি। তার কাওম আনসাররা বলতো: “বীরত্ব ও সাহসিকতায় কতইনা সেরা মানুষ হলেন আমাদের নেতা কাইস ইবন সা‘দ; কিন্তু কষ্টের বিষয় হলো, তার কোনো দাড়ি নেই। দিরহাম দিয়ে যদি দাড়ি কেনা যেতো, তাহলে আমরা তার জন্য দাড়ি কিনতাম!!”

তদ্রূপ তাবে‘ঈ আহনাফ ইবন কায়েসেরও কোনো দাড়ি ছিল না, তিনিও তার গোত্রের নেতা ছিলেন। তার গোত্রের লোকেরা বলতেন: দাড়ি কিনতে ২০ হাজার দিরহাম লাগলেও, তা দিয়ে তার জন্য দাড়ি কিনতাম।” এটা এ জন্য যে, দাড়ি তাদের নিকট সৌন্দয্য ও পুরুষত্ব এবং পরিপূর্ণ ব্যক্তিত্বের প্রতীক ছিল। তাদের গর্দান চলে যাক কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু দাড়ি যেন চলে না যায়, এ ব্যাপারে তারা আপোস করতেন না। আল্লাহ তা‘আলাই বেশি জানেন যে, পুরুষের জন্য কোনটি বেশি উপযোগী? তিনি পুরুষের জন্য দাড়ি চয়েস করেছেন, তাই এর দ্বারা তাকে সজ্জিত করেছেন। আল্লাহ যা চয়েস করেছেন, কোনো জ্ঞানী ব্যক্তি কি সেটাকে অপছন্দ করতে পারে? কখনই না। আল্লাহ বেশি জানেন, নাকি বান্দা বেশি জানেন? কারণ, মানুষের জ্ঞানের পরিধি সীমাবদ্ধ।

আল্লাহ তা‘আলা তাই বলেন,
﴿ ءَأَنتُمۡ أَعۡلَمُ أَمِ ٱللَّهُۗ﴾ [البقرة: ١٤٠]“তোমরা কি বেশি জান, না আল্লাহ?” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৪০]

মহান আল্লাহ চাইলে পুরুষদেরকে সৃষ্টি করতে পারতেন দাড়ি ব্যতীত। কিন্তু তিনি দাড়ি দিয়ে পুরুষকে নারী থেকে স্বতন্ত্র (আলাদা) করে দিয়েছেন।

➥ লিংকটি কপি অথবা প্রিন্ট করে শেয়ার করুন:
পুরোটা দেখুন

এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য লিখা

Back to top button