ঈমানফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম

প্রশ্ন: কবরবাসীর কাছে দো‘আ করার বিধান কী?

উত্তর: দো‘আ করা দু’প্রকারঃ

(১) ইবাদাতের মাধ্যমে দো‘আ। , সালাত, সাওম এবং অন্যান্য ইবাদাত। সালাত আদায় করে কিংবা সাওম রাখে, তখন সে প্রভুর কাছে উক্ত ইবাদাতের মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহর আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চায়। আল্লাহর বাণী,

﴿وَقَالَ رَبُّكُمُ ٱدۡعُونِيٓ أَسۡتَجِبۡ لَكُمۡۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَسۡتَكۡبِرُونَ عَنۡ عِبَادَتِي سَيَدۡخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ﴾ [غافر: ٦٠]

“তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো। যারা অহংকার করতঃ আমার ইবাদাত হতে বিমুখ হবে, তারা অবশ্যই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” [সূরা আল-মুমিন, আয়াত: ৬০]

আল্লাহ তা‘আলা দো‘আকে ইবাদাত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি ইবাদাতের কোনো প্রকার আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্যে পেশ করবে, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে কাফিরে পরিণত হবে। সুতরাং কেউ যদি কোনো বস্তুকে আল্লাহর মত সম্মানিত ভেবে তার সামনে রুকু করে অথবা সেজদা করে, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে কাফিরে পরিণত হবে। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শির্কের দরজা বন্ধ করার জন্য পারস্পরিক সাক্ষাতের সময় কারো সামনে মাথা নত করতে নিষেধ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোনো ব্যক্তি কি মুসলিম ভাইয়ের সাক্ষাতে মাথা নত করবে? উত্তরে তিনি তা করতে নিষেধ করেছেন। সালাম দেওয়ার সময় অজ্ঞ লোকেরা যদি আপনার সামনে মাথা নত করে, তবে আপনার উপর আবশ্যক হলো, তাদের কাছে বিষয়টি বর্ণনা করে দেওয়া এবং তাকে নিষেধ করে দেওয়া।

(২) কোনো প্রয়োজনে কারো নিকট কিছু চাওয়া বা প্রার্থনা করা। এটি সকল ক্ষেত্রে শির্ক নয়।

প্রথমত: যার কাছে দো‘আ করা হবে, সে যদি জীবিত হয়ে থাকে এবং প্রার্থিত বস্তু প্রদান করতে সক্ষম হয়ে থাকে, তাহলে শির্ক হবে না। যেমন আপনি কাউকে বললেন, আমাকে পানি পান করান, আমাকে দশটি টাকা দিন, ইত্যাদি। এ ধরণের কথা শির্ক নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমাদেরকে যখন কেউ আহ্বান করে, তবে তোমরা তার আহ্বানে সাড়া দাও”।[1]

আল্লাহ বলেন,

﴿وَإِذَا حَضَرَ ٱلۡقِسۡمَةَ أُوْلُواْ ٱلۡقُرۡبَىٰ وَٱلۡيَتَٰمَىٰ وَٱلۡمَسَٰكِينُ فَٱرۡزُقُوهُم مِّنۡهُ﴾ [النساء: ٨]

“সম্পদ বন্টনের সময় আত্মীয়, ইয়াতীম এবং মিসকীন উপস্থিত হলে, তাদেরকে তা থেকে রিযিক হিসেবে কিছু দান কর।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮]

সুতরাং ফকীর যদি হাত বাড়ায় এবং বলে আমাকে কিছু দান করুন, তাহলে তা জায়েয হবে। যেহেতু আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা তাদেরকে রিযিক রিযিক হিসেবে কিছু দাও।”

দ্বিতীয়ত: যার কাছে দো‘আ করা হলো, সে যদি মৃত হয়, তাহলে শির্ক হবে এবং এতে লিপ্ত ব্যক্তি মুশরিকে পরিণত হবে। বড়ই আফসোসের বিষয় যে, কিছু কিছু মুসলিম অধ্যষিত দেশে এমন অনেক মুসলিম রয়েছে, যারা বিশ্বাস করে যে, কবরে দাফনকৃত মাটির সাথে মিশে যাওয়া মৃত লোকটি উপকার বা অপকারের ক্ষমতা রাখে অথবা সন্তানহীনকে সন্তান দিতে সক্ষম। এটি বড় শির্কের অন্তর্ভুক্ত, যা মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। এ ধরণের শির্ককে সমর্থন করা মদ্য পান, ব্যভিচার এবং অন্যান্য পাপ কাজ সমর্থন করার চেয়েও জঘণ্য। আল্লাহর কাছে দো‘আ করি তিনি যেন মুসলিমদের অবস্থা সংশোধন করে দেন।

[1] সহীহ বুখারী, অধ্যায়: কিতাবুন নিকাহ।

সূত্র: ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম।
লেখক: শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ)।

➥ লিংকটি কপি অথবা প্রিন্ট করে শেয়ার করুন:
পুরোটা দেখুন

এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য লিখা

Back to top button