হারাম ও কবিরা গুনাহ

ধূমপান ত্যাগের সহায়ক কিছু কথা / কারণ

প্রশ্ন :  এ প্রশ্নটি আল্লামা শাইখ ইবনে উসাইমীন রহমাতুল্লাহ আলাইহিকে করা হয়েছিল: প্রতিটি হারাম কাজে পতিত ব্যক্তির জন্য ইসলামে নির্ধারিত শাস্তি রয়েছে শুধু ধূমপান ব্যতীত। আল্লাহর তাওফীকে রাষ্ট্র সাধ্যানুযায়ী এ থেকে সতর্ক করে যাচ্ছে এবং তা হারামের উপর আলেমগণ একমত পোষণ করেছেন। এ ব্যাপারে কিছু দিক নির্দেশনা দেওয়ার সাথে সাথে ইহাও বলবেন কি যে, এর কোনো শাস্তি আছে কি না?

উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ্‌।

ধূমপান শেষ যামানায় বা বহু পরে আবির্ভাব হয়েছে, এর আবির্ভাবের ফলে আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মতভেদ দেখা দিয়েছিল কিন্তু বর্তমান যুগে প্রতিটি সুস্থ জ্ঞানের অধিকারী নিঃসন্দেহে বলবে যে, এটি হারাম। কারণ এতে শারীরিক, আত্মিক এবং আর্থিক ক্ষতি রয়েছে।

আত্মিক ক্ষতি হলো: এতে আসক্ত ব্যক্তি যখন তা না পায় তখন সে চিন্তায়, দুর্ভাবনায়, ক্লান্তিতে পড়ে এবং তার বক্ষ সংকীর্ণ হয়ে আসে যতক্ষণ না সে তা গ্রহণ করে। কাজেই তা না পাওয়ায় সে নিজের শাস্তির কারণ হয়ে দাড়ায়।

✔ শারীরিক ক্ষতি হলো: শরীরে বহু রোগের জন্ম দেয়। তার মধ্যে ক্যান্সার অন্যতম, আল্লাহ আমাদেরকে এ ব্যাধি থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। এমনিভাবে দাঁত ও ফুসফুস নষ্ট হয়ে যায় এবং শারীরিক শক্তি কমে যায়।

✔ আর্থিক ক্ষতি হলো: এতে অর্থ নষ্ট হয়। উল্লেখিত তিনটি কারণের যে কোনো একটি কারণেই বলা যায় যে তা হারাম। অতএব, এতে প্রতিটি আসক্ত ব্যক্তির প্রতি আমার উপদেশ হলো: এ থেকে নিজেকে বিরত রাখার জন্য প্রত্যেকের সাধ্যমত চেষ্টা করা উচি । আর যারা আসক্ত নয় তারা যেন এর উপর আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, এর উপর দৃঢ় ও প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং অধিকাংশ লোককে এতে আসক্ত দেখে যেন ধোঁকায় না পড়ে। কারণ অধিকাংশ লোক কোনো বাতিলকে সত্য বানাতে পারবে না এবং কোনো হারামকে হালাল করতে পারবে না। ধূমপানে আসক্ত ব্যক্তি যেন একটু যাচাই করে দেখে যে, ধূমপান ত্যাগ করার ফলে তার সুস্থতা, সবলতা এবং উদ্দম ফিরে আসে কি না।

এ থেকে বিরত থাকার কিছু উপায় নিম্নরূপ:

✔ ১- বিশ্বাস রাখতে হবে যে তা হারাম। তা শুধু পাপই বয়ে আনবে এবং আল্লাহ ও তার রহমত থেকে দূরে রাখবে।

✔ ২- তা ত্যাগের দ্বারা আল্লাহর ইবাদত হয়। কেননা আল্লাহর নিষিদ্ধ কোনো হারাম পরিত্যাগ করাই ইবাদত। কাজেই বিশ্বাস রাখবেন যে, তা ত্যাগে আল্লাহর ইবাদত হচ্ছে।

✔ ৩- দিনের পর দিন আস্তে আস্তে কমিয়ে আনতে আনতে একেবারেই ত্যাগ করে ফেলবেন। ধীরে ধীরে অভ্যাস করলে তা ত্যাগ করা সম্ভব হবে।

✔ ৪- ধূমপায়ীদের সংস্পর্শ ত্যাগ করবেন, কারণ এদের থেকে দূরে থাকলে অবশ্যই এ থেকে বিরত থাকতে পারবেন এবং তা পান করাও কম হবে। কিন্তু তাদের সংস্পর্শে থাকলে তাদের ধূমপান দেখে ধৈর্য ধরতে পারবেন না। আল্লাহই তাওফীক দাতা। (ফাতাওয়া ও দিকনির্দেশনা পৃ:৮৯-৯০)

আল্লাহ্‌ সবচেয়ে ভালো জানেন

সংকলন: আমের সালেহ আলাওয়ী নাজী
সূত্র: ইসলামহাউজ।

➥ লিংকটি কপি অথবা প্রিন্ট করে শেয়ার করুন:
পুরোটা দেখুন

মোঃ মামুনূর রশিদ (বকুল)

❝ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোন হক ইলাহ নেই,এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল।❞ যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, আমি একজন মুসলিম, তার কথা অপেক্ষা উত্তম কথা আর কার?" আমি একজন তালিবুল ইলম। আমি নিজেকে ভুলের উর্ধ্বে মনে করি না এবং আমিই হক্ব বাকি সবাই বাতিল এমনও ভাবিনা। অতএব, আমার দ্বারা ভুলত্রুটি হলে নাসীহা প্রদানের জন্যে অনুরোধ রইল।

এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য লিখা

Back to top button