ফাতাওয়া আরকানুল ইসলামহজ্জ ও উমরা

প্রশ্ন: (৪৯৪) রামাযানে বারবার উমরা করার বিধান কী? এরকম কোনো সময় কি নির্দিষ্ট আছে যে, এতদিন পরপর উমরা করতে হবে?

উত্তর: রামাযানে বারবার উমরা করা বিদ‘আত। কেননা এক মাসের মধ্যে বারবার উমরা করা সালাফে সালেহীন তথা সাহাবায়ে কেরামের নীতির বিপরীত। এমনকি শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবন তায়মিয়া রহ. তাঁর ফাতওয়ায় উল্লেখ করেছেন, সালাফে সালেহীনের ঐকমত্যে বারবার বেশি পরিমাণে উমরা করা মাকরূহ। বিশেষ করে যদি তা রামাযানে হয়। বিষয়টি যদি পছন্দনীয় হত, তবে সালাফে সালেহীন তো এ ব্যাপারে অধিক অগ্রগামী হতেন এবং বারবার উমরা করতেন। দেখুন না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করতেন। নেক কাজকে সর্বাধিক ভালোবাসতেন। তিনি মক্কা বিজয়ের সময় উনিশ দিন সেখানে অবস্থান করেছেন সালাত আদায় করেছেন। কিন্তু কোনো উমরা আদায় করেন নি।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা যখন উমরা করার ব্যাপারে পিড়াপিড়ি করছিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ভ্রাতা আবদুর রহমানকে বললেন, একে তান‘ঈম নিয়ে গিয়ে ইহরাম করিয়ে নিয়ে আস। যাতে করে তিনি উমরা আদায় করতে পারেন। কিন্তু আবদুর রহমানকে একথা বললেন না, তুমিও তাঁর সাথে উমরা করে নিও। যদি বিষয়টি শরী‘আতসম্মত হতো তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সে নির্দেশনা দিতেন। সাহাবায়ে কেরামের নিকট বিষয়টি শরী‘আতসম্মত হলে আবদুর রহমান তা করতেন। কেননা তিনি তো হারাম এলাকার বাইরে গিয়েছিলেন।

দু’ উমরার মাঝে কত ব্যবধান হওয়া উচিৎ এ সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেন, দেখবে যে পর্যন্ত মাথা পোড়া কাঠের মতো কালো না হয়। অর্থাৎ মাথা ভর্তি চুল না হয়।

 

 

সূত্র: ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম।
লেখক: শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ)।

➥ লিংকটি কপি অথবা প্রিন্ট করে শেয়ার করুন:
পুরোটা দেখুন

এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য লিখা

Back to top button