ফাতাওয়া আরকানুল ইসলামহজ্জ ও উমরা

প্রশ্ন: (৪৭৩) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত তালবিয়াটি কী? উমরা এবং হজের ক্ষেত্রে কখন তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করতে হবে?

উত্তর: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত তালবিয়াটি হচ্ছে নিম্নরূপ:

«لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ».

“লাববাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাববাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক্, লা শারীকা লাক।”[1] ইমাম আহমাদ একটু বৃদ্ধি করে বর্ণনা করেন, “লাব্বাইকা ইলাহাল হক্ব।” এর সনদ হাসান।

উমরার ক্ষেত্রে তাওয়াফ শুরুর পূর্বে তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করবে। আর হজের ক্ষেত্রে দশ তারিখে ঈদের দিন জামরা আকাবায় পাথর মারার পূর্বে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবে। তিরমিযীতে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাতে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার সময় তালবিয়া বলা বন্ধ করতেন।”[2] ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেন। কিন্তু এর সনদে মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমান ইবন আবূ লায়লা নামক জনৈক বর্ণনাকারী আছে। অধিকাংশ হাদীস বিশারদ তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা আরো বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফা থেকে মুযদালিফা আসার পথে তাঁর আরোহীর পিছনে উসামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বসিয়েছিলেন। মুযদালিফা থেকে মিনা যাওয়ার পথে ফাযল ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে পিছনে বসিয়েছিলেন। তারা উভয়ে (উসামা ও ফাযল) বলেছেন, তিনি জামরা আকাবা বা বড় জামরায় কঙ্কর মারার পূর্ব পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থেকেছেন।[3]

ইমাম মালেকের মতে, হারাম শরীফে পৌঁছার সাথে সাথে তালবিয়া বলা বন্ধ করবে। কেউ কেউ বলেছেন, বায়তুল্লাহর কাছে পৌঁছলে বা কাবা ঘর দেখলেই তালবিয়া বলা বন্ধ করবে। লাব্বাইক বলার অর্থ হচ্ছে: আপনার আনুগত্যের কাজ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আপনার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছি।

[1] সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: তালবিয়া; সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: তালবিয়া ও তার পদ্ধতি।

[2] আবু দাঊদ, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: কখন তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করতে হবে; তিরমিযী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: উমরাতে কখন তালবিয়া পাঠ বন্ধ করতে হবে।

[3] সহীহ বুখারী, অধ্যায়: হজ, অনুচ্ছেদ: হজে আরোহণ করা একে অপরের পিছনে আরোহণ করা।

 

 

সূত্র: ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম।
লেখক: শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ)।

➥ লিংকটি কপি অথবা প্রিন্ট করে শেয়ার করুন:
পুরোটা দেখুন

এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য লিখা

Back to top button